
আহতদের মধ্যে ১৩ জনের অবস্থা সঙ্কটজনক বলে জানা গেছে, তাঁদের শ্রীনগরের সেনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি গোষ্ঠী জইশ-ই-মহম্মদ।
অবন্তীপুরায় এই হামলার দায় স্বীকার করেছে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন জৈশ-ই-মহম্মদ। এই হামলার তীব্র নিন্দা করেন প্রায় সমস্ত রাজনৈতিক দলের নেতারাই। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেন, অত্যন্ত কাপুরুষের মতো কাজ এটা। এতজন সেনার শহীদ হয়ে যাওয়া মেনে যাওয়া না। আমি তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করি। তাঁদের পরিবারকে সমবেদনা জানাই। আহতদেরও দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহের আগামীকালই শ্রীনগর সফরে যাওয়ার কথা। তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্যপাল, সিআরপিএফের প্রধান এবং স্বরাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে কথা বলেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অরুণ জেটলি টুইট করে বলেন, এই কাজের জন্য এমন সাজা দেওয়া হবে জঙ্গিদের, যা ওরা কোনওদিন ভুলতে পারবে না।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, ৭০'টিরও বেশি গাড়ির কনভয় নিয়ে যাচ্ছিল সিআরপিএফের জওয়ানরা। জম্মু-কাশ্মীর হাইওয়ের ওপর দিয়ে। গোরিপোরার সামনে দিয়ে। সেই সময়ই গাড়ি বোমা বিস্ফোরণ করে জঙ্গিরা।পিডিপি নেত্রী ও জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি টুইট করে বলেন, নিন্দার কোনও ভাষা নেই আমার কাছে। এত ভয়াবহ ও নারকীয় ঘটনাকে কিছুতেই মানা যায় না। আর কতদিন, কতদিন ধরে চলবে এইসব ঘটনা?ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা ওমর আবদুল্লা টুইট করে বলেন, "আমি এই হামলার কঠোরতম ভাষায় নিন্দা করছি। নিহত জওয়ানএর পরিবার ও আহত জওয়ানদের জন্যও প্রার্থনা করছি আমি"।ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি বলেন, পুলবামায় এতজন জওয়ানের আজ শতীদ হয়ে যাওয়ার ঘটনার কথা শুনে আমি মর্মাহত। আমি ওই জওয়ানদের স্যালুট করি। তাঁদের আত্মা এবং তাঁদের পরিবার-পরিজনদের জন্য আমাদের প্রার্থনা সবসময়ই থাকবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার জম্মু কাশ্মীর জাতীয় সড়কের ওপর দিয়ে যাচ্ছিল ৭০ সিআরপিএফ জওয়ানদের কনভয়।বিস্ফোরণে একটি বাস পুড়ে যায়। এলকাটি জঙ্গিদের মুক্তাঞ্চল এবং এই এলাকায় রয়েছে উচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা বলয়।ছবিতে দেখা গেছে, অন্তত একটি গাড়ি রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে, তার পাশেই রয়েছে নীল রং এর কনভয়, সেখান থেকে কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। আধিকারিকদের সূত্রে জানা গেছে, হামলা করেছে আদিল আহমেদ দার ওরফে “ওয়াকাস কম্যান্ডো”। স্থানীয় কোকাপুরায় তার বাড়ি বলে জানা গেছে।গত বছরের জঙ্গিগোষ্ঠীতে নাম লেখায় সে।

ক্ষতিগ্রস্ত বাসটি সিআরপিএফের ৭৬ ব্যাটেলিয়নের , বাসটিতে ছিলেন ৩৯ জন জওয়ান। বাসটিতে গুলির চিহ্ন থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, বিস্ফোরণের পর লুকিয়ে থেকে গুলি চালিয়েছে জঙ্গিরা।বিদেশমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী ভিকে সিং বলেন, ““একজন সৈনিক এবং ভারতীয় হিসাবে, এই ধরণের কাপুরুষোচিত হামলায় আমার রক্ত গরম হয়ে যায়। দেশের ১৮ জন বীর সৈনিক তাঁদের জীবন উৎসর্গ করলেন। আমি তাঁদের আত্মবলিদানকে স্যালুট জানাই, এবং প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমাদের সৈনিকদের প্রতিটি রক্তবিন্দুর শোধ নেওয়া হবে”।
স্যোশাল সাইটে হামলার নিন্দা করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলিও।
এই হামলাকে সম্ভাব্য আত্মঘাতী হামলা বলে আখ্যা দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।
এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, কনভয়ে ছিলেন মোট ২৫০০ জওয়ান। তিনি বলেন, “উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে রয়েছেন, তদন্ত চলছে। আহতদের শুশ্রসা চলছে”।
সংবাদসংস্থা এএনআই অনুসারে, খারাপ আবহাওয়ার জন্য জম্নু কাশ্মীর জাতীয় সড়ক গত দুদিন বন্ধ ছিল।বিকেল সাড়ে তিনটেয় রওনা হয় জওয়ানদের কনভয়।কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেন, সিআরপিএফ জওয়ানদের ওপর এভাবে কাপুরুষোচিত হামলায় তিনি অত্যন্ত বিরক্ত। পুলওয়ামায় হামলা নিয়ে তিনি ট্যুইটে লেখেন, “শহিদদের পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি”।
জম্মু কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওপর আব্দুল্লা এই হামলাকে ২০০৪-০৫-এর আগে জঙ্গি হামলার কালো দিনের স্মৃতি উস্কে দেওয়ার মতো বলে বর্ণনা করেছে। ট্যুইট করে ঘটনার নিন্দা করে পিডিপি নেত্রী মেহবুবা নেত্রী লেখেন, “অবন্তীপুরায় খুবই মন খারাপ করা খবর। আমাদের ১২ জন জওয়ান শহিদ, আহত আরও বহু।এই ধরণের জঙ্গি হামলার নিন্দা করার কোনও ভাষা নেই। এই পাগলপন্থা বন্ধ হতে আর কত প্রাণ যাবে”?ঘটনার কিছুক্ষণ পরে হামলার নিন্দা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।ট্যুইটে হামলার নিন্দা করে তিনি লেখেন, ““পুলওয়ামায় সিআরপিএফ জওয়ানদের ওপর হামলার ঘটনা নিন্দনীয়। আমি এই ধরণের কারপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা করছি। আমাদের বীর নিরাপত্তাকর্মীদের বলিদান বিফলে যাবে না।বীর শহিদদের পাশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াবে গোটা দেশ। আহতরা দ্রুত আরোগ্যলাভ করুন”।

ঘটাকে হাতিয়ার করে কাশ্মীরের রাজনৈতিক দলকে আক্রমণের সুযোগ হাতছাড়া করেন নি বিজেপি নেতা জীতেন্দ্র সিং।তিনি প্রশ্ন তোলেন, “সিআরপিএফ জওয়ানদের ওপর এই কাপুরষোচিত হামলা জঙ্গিদের একটি বেপরোয়া পদক্ষেপ। যেখানে পুরো দেশ ভারতের নিরাপত্তা রক্ষীদের পাশে দাঁড়িয়েছে, এটা কি কাশ্মীরের রাজনীতিবিদদের চোখ খুলে দেবে, যারা এই ধরণের ঘটনায় তর্কাতর্কি করেন”।সোশ্যাল মিডিয়ায় হামলার ঘটনার নিন্দা করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলত, কংগ্রেস নেতা রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা।
হামলার তদন্তে নেমেছে জম্মু কাশ্মীর পুলিশ। শুক্রবার শ্রীনগর যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং।
এই হামলা ২০১৬ সালে উরির হামলার থেকেও বেশী, সেবার ভারতীয় বাহিনীর হেডকোয়াটারে হামলা চালায়, শহিদ হন ১৯ জন। পরে সীমান্ত পেরিয়ে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করে জবাব দেয় ভারতীয় সেনা বাহিনী।
গত দু দশকে সবচেয়ে বড় হামলা হয় ২০০১ এর ১ অক্টোবর।একটি টাটা সুমো গাড়িতে বিস্ফোরক বোঝাই করে জম্মু কাশ্মীর বিধানসভা ভবনের মেন গেটে বিস্ফোরণ ঘটায়।সেবার মৃত্যু হয়েছিল ৩৮ জনের।
জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলায় যে গাড়ি বিস্ফোরণের ফলে অন্তত ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ানের মৃত্যু হল, সেই গাড়িটি চালাচ্ছিল জইশ-ই-মহম্মদের জঙ্গি আদিল আহমেদ দার। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এই কথা জানানো হয়। কাকাপোরার বাসিন্দা আদিল আহমেদ দার গতবছরই এই সন্ত্রাসবাদী সংগঠনে নিজের নাম লেখায়। তার অন্য দুটি নাম হল ' আদিল আহমেদ গাড়ি টকরানেওয়ালা' এবং 'ওয়াকস কম্যান্ডো অব গুন্দিবাগ'। প্রায় ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ানকে নিয়ে যাচ্ছিল যে বাসটি সেই বাসটিতে ৩৫০ কেজি বিস্ফোরক বোঝাই স্করপিও নিয়ে হানা দেয় আদিল আহমেদ দার। এই ভয়াবহ হানার পরেই তার ছবি এবং ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত হতে থাকে। ২০১৬ সালের উরিতে হানার পর এত ভয়াবহ জঙ্গিহানা সেনার ওপরে এই দেশ আর দেখেনি। প্রসঙ্গত, উরির হানায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ১৯ জন সেনা।
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে একাধিক রাইফেল নিয়ে জইশ-ই-মহম্মদের ব্যানারের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে আদিল আহমেদ দার। অণুসন্ধানকারীরাও এই হানার ব্যাপকতা দেখে চমকে গিয়েছেন। তার কারণ, জইশ-ই-মহম্মদের নেতৃত্বের প্রায় সবাইকেই গত কয়েক বছরের মধ্যে একেবারে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছিল।গত বছরই জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান হিসেবে কাজ করত যে, সেই মহম্মদ উসমানকে নিরাপত্তাবাহিনী মেরে ফেলে। মৌলানা মাসুদ আজহারের ভাইপো ছিল সে। তার মৃত্যুর পর সংগঠনের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া গিয়েছে এমনটাই মনে করা হয়েছিল। দেখা গেল, কার্যত, সেই মনোভাবটি আদতে ঠিক কতটা ভ্রান্ত।
আদিল আহমেদ নামে এক আততায়ীকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।তার বাড়ি পুলওয়ামার কাকাপুরায় বলে জানতে পেরেছে পুলিশ।২০১৮ সালে সে জঙ্গি গোষ্ঠী জইশ-ই মহম্মদে যোগ দেয় আদিল আহমেদ।
বাড়তে পারে মৃতের সংখ্যা।বিস্ফোরণের পর বাসটি ধাতু ভস্মের স্তুপে পরিণত হয়।অন্যান্য গাড়িগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জওয়ানদের শরীরের ছিন্নভিন্ন অংশ এবং ধ্বংশাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে, তার সঙ্গে মিশে যায় বরফ।বাসে লেগে থাকা গুলির চিহ্নে স্পষ্ট, লুকিয়ে রয়েছে জঙ্গিরা।তারা বাসের ওপর গুলি চালিয়ে থাকতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। সিআরপিএফের এক উচ্চ পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, “এটা একটি জঙ্গি হামলা, আমরা এর কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।যানবহনের মাধ্যমে হামলা চালানো হয়েছে বলে আমাদের মনে হয়”।
নিরাপত্তার ঘেরাটোপে থাকা একটি এলাকায় জঙ্গিরা কীভাবে বিস্ফোরক নিয়ে ঢুকল তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সিআরপিএফের তরফে জানানো হয়, “এটি তদন্ত সাপেক্ষ”।
ঘটনার নিন্দা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী সুভাষ ভামরে। “ঘটনায় যারা জড়িত তাদের কাউকে রেয়াত করা হবে না” বলে জানান তিনি।
২০১৬ এর সেপ্টেম্বরে উরি হামলার পর থেকে এটিই সবচেয়ে বড় হামলা।সেবার উরিতে হামলায় শহিদ হন ১৯ জন জওয়ান।এরপরেই সীমান্ত পেরিয়ে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করে ভারতীয় সেনা, শত্রুপক্ষের বেশ কয়েকটি ছাউনি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
কেন্দ্রীয়মন্ত্রী ভিকে সিং ট্যুইটে লেখেন, “একজন সৈনিক এবং ভারতীয় হিসাবে, এই ধরণের কাপুরুষোচিত হামলায় আমার রক্ত গরম হয়ে যায়।দেশের ১৮ জন বীর সৈনিক তাঁদের জীবন উৎসর্গ করলেন।আমি তাঁদের আত্মবলিদানকে স্যালুট জানাই, এবং প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমাদের সৈনিকদের প্রতিটি রক্তবিন্দুর শোধ নেওয়া হবে। হামলার নিন্দা করেছেন রাজনীতিবিদরা।ট্যুইট করে মেহবুবা মুফতি লেখেন, “এই ধরণের জঙ্গি হামলার নিন্দা করার কোনও ভাষা নেই।এই পাগলপন্থা শেষ হতে আর কতজনকে জীবন দিতে হবে”।
জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় হামলার হামলার ঘটনার নিন্দা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বললেন, দেশের সৈনিকদের আত্মবলিদান ব্যর্থ হবে না।
ট্যুইটে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “পুলওয়ামায় সিআরপিএফ জওয়ানদের ওপর হামলার ঘটনা নিন্দনীয়।আমি এই ধরণের কারপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা করছি। আমাদের বীর নিরাপত্তাকর্মীদের বলিদান বিফলে যাবে না।বীর শহিদদের পাশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াবে গোটা দেশ।আহতরা দ্রুত আরোগ্যলাভ করুন”।বৃহস্পতিবার জম্মু কাশ্মীরের পুলওয়ামার অবন্তীপুরায় সিআরপিএফের কনভয়ে হামলা চালায় জঙ্গিরা, শহিদ হন ১৮ জন জওয়ান, আহত হন অন্তত ৪০ জন।প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, একটি স্করপিও গাড়িতে ৩৫০ কেজি বিস্ফোরক বোঝাই করে হামলা চালিয়েছে জঙ্গিরা।


No comments:
Post a Comment